1. admin@apontelevision.com : admin :
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

ভূয়া মাদ্রাসা শিক্ষক, কালিয়ায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক হয়রানি।

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩
  • ১৬২ বার পঠিত

জনি চৌধুরী নড়্ইাল জেলা প্রতিনিধি :

নড়াইলের কালিয়ায় ভূয়া মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মতিউর রহমান রাজ ওরফে শামীম রেজার পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অবিভাবকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শামীম রেজা উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আঃ ছাত্তার মোল্যার ছেলে। মাদ্রাসা শিক্ষক না হয়েও সে নিজেকে কালিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ওইসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের নামে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার রোষানল থেকে রক্ষা পেতে ১৪জন গ্রামবাসি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন ও ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, শমীম রেজা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসাবে ভূয়া পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে আসছেন। পরিচিত বা অপরিচিত মানুষকে চলার পথে বা রাস্তা-ঘাটে থুথু (ছ্যাপ) ফেলতে দেখলে শামীম তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করাসহ মারধর পর্যন্ত করেন তিনি। তেমনই থুথু ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি কলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষর্থী এস এম সামিউল হক, মো. জোহায়ের অনিক, দীপু তালুকদার, আব্দুল্লাহ মীর ও কলেজ শিক্ষার্থী এসএম ইজাজ উল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ মে উপজেলার নড়াগাতি থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হলে তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই মো. জাকির হোসেন গত ৬ জুন উপজেলার নড়াগাতি থানায় ১৯৫ নম্বর একটি জিডি করেন। তারপরও শামীম গত ২৩ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষক হিসাবে ভূয়া পরিচয় দিয়ে নাম ভাঙ্গিয়ে একই দিনের ঘটনার উল্লেখ করে ওইসব পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আমলী আদালত নড়াগাতি, নড়াইলে এমপি ৫৭/২৩ একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সিআইডি নড়াইল জেলা শাখার ওপর ন্যস্ত করেন। এছাড়া গত ২৫ মে দুপুরে দীপু তালুকদার ও আবু তাহের মোল্যা নামের কলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শামীম রাস্তায় ফেলে মারধর করে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে শামীম নিজের অপকর্ম ঢাকতে নিজেকে কালিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে ভূয়া পরিচয় দেন। থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে শামীম রেজার অত্যাচারের বহু ঘটনার প্রমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দিপু তালুকদারসহ ভুক্তভোগী ওইসব পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা স্কুল থেকে বাড়ি আসার পথে অজানা অবস্থায় রাস্তার পাশে থুথু ফেললে শামীম রেজা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়াসহ মারধর করেন। এ বিষয় কলাবাড়িয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম লুলু বলেন, থুথু ফেলতে দেখলে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে যখন তখন যাকে তাকে মারধর করে। নিরাপরাধ মানুষের নামে আদালতে বা থানা পুলিশে মিথ্যা মামলাসহ অভিযোগ দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষকে হয়রানি করে আসছে শামীম।কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হাসমত তালুকদার বলেন, শামীম নিজের অপকর্ম ঢাকতে ছাত্র,অভিভাবক ও ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। মো.মতিউর রহমান রাজ ওরফে শামীম রেজা বলেন, আমি কালিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলাম। শিক্ষার্থীরা আমাকে দেখলে অকারণে আমার সামনে থুথু ফেলে। এ বিষয়টি আমি অভিভাবকদের জানিয়েছি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তাঁরা কোন ব্যবস্থা নেননি। বিধায় আমি আদালতে মামলা করেছি।কালিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দবির উদ্দিন বলেন, মো. মতিউর রহমান রাজ ওরফে শামীম রেজা নামে আমার মাদ্রাসায় কোন শিক্ষক অতীতেও ছিলনা বর্তমানেও কর্মরত নেই।কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনুসাহা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2024
Design By Raytahost